জোট-ভোটের রাজনীতি
যত জনপ্রিয় দলই হোক না কেন, নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতন-পরবর্তী সময়ে এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। অন্য দলের সহায়তা নিয়েই তাদের ক্ষমতায় আসতে হয়েছে। এটি যেমন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য সত্য, তেমনি বিরোধী দল বিএনপির বেলায়ও প্রযোজ্য। এ কারণেই নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, জোটের রাজনীতিও তত সক্রিয় হচ্ছে।
দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজ নিজ জোটের পরিসর বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ তৃতীয় ধারা তৈরির চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে।
কিন্তু অধিকাংশ জোটের রাজনীতিতে যে নীতি-আদর্শের বালাই নেই, তার প্রমাণ বাঙালি জাতীয়তাদের প্রবক্তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনকারী পতিত স্বৈরাচারের দল জাতীয় পার্টির জোট গঠন। মতাদর্শিক বিরোধ সত্ত্বেও দুটি দল ১০ বছর ধরে সংসদের বাইরে ও ভেতরে মিলেমিশে আছে। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ঝান্ডাধারী বিএনপির সঙ্গে মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামীর গাঁটছড়া বহু বছরের। এ বন্ধন এতই মজবুত যে বিএনপি জামায়াতকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার কথা ভাবতে পারছে না, যদিও শেষোক্ত দলটির নিবন্ধন নেই।
যেকোনো রাজনৈতিক জোটে ন্যূনতম নীতি ও আদর্শের মিল থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতির এমনই আশ্চর্য মাজেজা যে ডান-বাম-মধ্য কিংবা মৌলবাদী-উদারপন্থী সব একাকার হয়ে যায়। এ কারণেই নব্বইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশবাসী যেই স্বৈরাচারী শাসককে হটিয়ে দিয়েছিল, সেই স্বৈরাচারী শাসকই আজ তাঁর সহায়তা ছাড়া কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে আস্ফালন করছেন।
গণতন্ত্রে নির্বাচনের মূল নিয়ামক শক্তি জনগণ। নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও তাদের চাওয়া–পাওয়া নিয়ে ক্ষমতার ভেতরে ও বাইরে থাকা নেতৃত্বের খুব একটা মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচনে দল এবং ক্ষেত্রবিশেষে জোটের পক্ষে একটি ইশতেহার ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনের পর তাঁরা মনে রাখেন না। নীতি ও আদর্শের বিষয়ে তাঁদের মনোভাবটা রবীন্দ্রনাথের গানের ভাষায় বলা যেতে পারে, ‘ন্যায় অন্যায় জানিনে জানিনে।’ এই নীতিচ্যুত রাজনীতি যে জনগণের কল্যাণ আনতে পারে না, তা হলফ করে বলা যায়।
গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো যদি গণতান্ত্রিক নীতিমালা সমুন্নত রাখত, তাহলে তাদের পালা করে স্বৈরাচার ও মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে হতো না। নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের সময় আন্দোলনরত তিন রাজনৈতিক জোট যে পাঁচ দফা রূপরেখা দিয়েছিল, সেটি অনুসৃত হলে অনেক রাজনৈতিক সমস্যা আমরা সহজে এড়াতে পারতাম।
নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের প্রতিনিধি বাছাইয়ের সুযোগ। আর সেই সুযোগ তখনই নিশ্চিত হতে পারে, যখন নির্বাচনের একটি সুষ্ঠু ও সুস্থ পরিবেশ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাবেন। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কেউ বাধার সম্মুখীন হবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো নির্বাচনের মাস তিনেক আগে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী ট্রেনযাত্রা শুরু করলেও বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।
রাজনৈতিক দলের নেতারা জোটের পরিধি বাড়াতে যতটা ব্যাকুল, ভোটের পরিবেশ তৈরিতে ততটাই উদাসীন বলে মনে হয়। তাঁদের বক্তৃতা–বিবৃতিতে জনগণের চাওয়া–পাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে। আগে ঘোষিত গঠনতন্ত্র ও দলীয় কর্মসূচি দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে চেনা যেত। একই জোটে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলের সহাবস্থানের কারণে তা–ও অনেকটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।
দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজ নিজ জোটের পরিসর বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। আবার কেউ কেউ তৃতীয় ধারা তৈরির চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে।
কিন্তু অধিকাংশ জোটের রাজনীতিতে যে নীতি-আদর্শের বালাই নেই, তার প্রমাণ বাঙালি জাতীয়তাদের প্রবক্তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনকারী পতিত স্বৈরাচারের দল জাতীয় পার্টির জোট গঠন। মতাদর্শিক বিরোধ সত্ত্বেও দুটি দল ১০ বছর ধরে সংসদের বাইরে ও ভেতরে মিলেমিশে আছে। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ঝান্ডাধারী বিএনপির সঙ্গে মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামীর গাঁটছড়া বহু বছরের। এ বন্ধন এতই মজবুত যে বিএনপি জামায়াতকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার কথা ভাবতে পারছে না, যদিও শেষোক্ত দলটির নিবন্ধন নেই।
যেকোনো রাজনৈতিক জোটে ন্যূনতম নীতি ও আদর্শের মিল থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতির এমনই আশ্চর্য মাজেজা যে ডান-বাম-মধ্য কিংবা মৌলবাদী-উদারপন্থী সব একাকার হয়ে যায়। এ কারণেই নব্বইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশবাসী যেই স্বৈরাচারী শাসককে হটিয়ে দিয়েছিল, সেই স্বৈরাচারী শাসকই আজ তাঁর সহায়তা ছাড়া কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে আস্ফালন করছেন।
গণতন্ত্রে নির্বাচনের মূল নিয়ামক শক্তি জনগণ। নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও তাদের চাওয়া–পাওয়া নিয়ে ক্ষমতার ভেতরে ও বাইরে থাকা নেতৃত্বের খুব একটা মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচনে দল এবং ক্ষেত্রবিশেষে জোটের পক্ষে একটি ইশতেহার ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনের পর তাঁরা মনে রাখেন না। নীতি ও আদর্শের বিষয়ে তাঁদের মনোভাবটা রবীন্দ্রনাথের গানের ভাষায় বলা যেতে পারে, ‘ন্যায় অন্যায় জানিনে জানিনে।’ এই নীতিচ্যুত রাজনীতি যে জনগণের কল্যাণ আনতে পারে না, তা হলফ করে বলা যায়।
গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো যদি গণতান্ত্রিক নীতিমালা সমুন্নত রাখত, তাহলে তাদের পালা করে স্বৈরাচার ও মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে হতো না। নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের সময় আন্দোলনরত তিন রাজনৈতিক জোট যে পাঁচ দফা রূপরেখা দিয়েছিল, সেটি অনুসৃত হলে অনেক রাজনৈতিক সমস্যা আমরা সহজে এড়াতে পারতাম।
নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের প্রতিনিধি বাছাইয়ের সুযোগ। আর সেই সুযোগ তখনই নিশ্চিত হতে পারে, যখন নির্বাচনের একটি সুষ্ঠু ও সুস্থ পরিবেশ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাবেন। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কেউ বাধার সম্মুখীন হবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো নির্বাচনের মাস তিনেক আগে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী ট্রেনযাত্রা শুরু করলেও বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ জারি রয়েছে।
রাজনৈতিক দলের নেতারা জোটের পরিধি বাড়াতে যতটা ব্যাকুল, ভোটের পরিবেশ তৈরিতে ততটাই উদাসীন বলে মনে হয়। তাঁদের বক্তৃতা–বিবৃতিতে জনগণের চাওয়া–পাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে। আগে ঘোষিত গঠনতন্ত্র ও দলীয় কর্মসূচি দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে চেনা যেত। একই জোটে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলের সহাবস্থানের কারণে তা–ও অনেকটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।
Comments
Post a Comment