খেলার মোড় বদলে দিল ইম্রুল কায়েস
কাল প্রায় মধ্য রাতে টিম হোটেলে পৌঁছে পরদিন দুপুরে ১৫০ কিলোমিটার দূরের আবুধাবিতে খেলতে নেমেছেন। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কোনো সময়ই পাননি, প্রতিপক্ষের বোলারদের চেয়ে ইমরুলের চিন্তায় ছিল আবুধাবির গরম। প্রতিপক্ষের বোলারদের সামলেছেন, কন্ডিশনও বাধা হয়নি—উড়ে গিয়েই দুর্দান্ত ইমরুলকে দেখা গেছে। দেখা গেছে দুর্দান্ত মাহমুদউল্লাহকেও। এ দুইয়ের ষষ্ঠউইকেটে ১২৮ রানের জুটির জন্যে বাংলাদেশ ছুড়ে দিয়েছে আফগানিস্তানকে ২৫০ রানের লক্ষ্য।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশের শুরুটা আজও বাজে। ওপেনিং জুটি ভেঙেছে মাত্র ১৬ রানে। আগেরদুই ম্যাচে ১৪ রান করানাজমুল আজ করতে পেরেছেন৬। সাকিব আল হাসানের জায়গায়মোহাম্মদ মিঠুনকে পাঠানো হয় তিনে। ব্যাটিংঅর্ডারে পদোন্নতি পেলেও স্কোরে উন্নতি হয়নি—মুজিবুর রহমানের বলে এলবিডব্লু হয়েছেন মাত্র ১ রানে। ১৮রানে ২ উইকেট হারিয়েফেলে যে ধাক্কাটা খেয়েছিলবাংলাদেশ, সেটি সামাল দেয় লিটন-মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে তোলা ৬৩ রানের জুটি।
ভালোই এগোচ্ছিল। হঠাৎ ভূতে পেয়ে বসল বাংলাদেশকে! ২ উইকেটে ৮১রান তুলে ফেলার পর বাংলাদেশের ইনিংসেযা ঘটল, কেবল ভূত তাড়া করলেই এমন পাগুলে কিছু করা সম্ভব। লিটন দাস আগের বলে চার মেরে পরের বলেই আবার উড়িয়ে মারতে চাইলেন এ সময়ের সেরালেগ স্পিনার রশিদ খানকে। রান হয় না এমনএকটা বলে রান নিতে চেয়ে শূন্য রানে রান আউট হলে ফিরলেন সাকিব। এভাবে রান নেওয়ার কোনো মানে হয়...সাকিবের সঙ্গে মাঠেই মৃদু বাতাসে মেতে ওঠা মুশফিক নিজে কী করলেন? তিনিওখ্যাপা দৌড় দিলেন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তথেকে। ১৪ বল আর৭ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারাল তিন তিনটি উইকেট।
বাংলাদেশের সামনে যখন লড়াইয়ের রান নিয়ে সংশয়, তখনই ইমরুল-মাহমুদউল্লাহর প্রতিরোধ। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টুর্নামেন্টের মাঝপথে হুট করে উড়িয়ে নেওয়া দুই ক্রিকেটারের একজন ইমরুল ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করছেন মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে। ষষ্ঠ উইকেটে এই জুটি ১২৮রান যোগ করেই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এটাই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড।
অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলটা লাফিয়ে চালাতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ আউট হয়েছেন ৭৪ রান করে।তবে ইমরুল অপরাজিত ৭২ রান করে। ক্যারিয়ারজুড়ে ব্যাটিং করেছেন ওপেনিং কিংবা তিনে। সেই ইমরুল আজ নামলেন ছয়ে।
কঠিন পথ পেরিয়ে ইমরুল ভালো খেলেছেন, ভালো খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদউল্লাহকে স্যালুট দিতে হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা তাঁর ব্যাটেই। তবে ইমরুল পাবেন বাড়তি বাহবা। এত দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে। আর তাঁর কাজটাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল বাংলাদেশের স্কোর। সেখান থেকেই ইমরুল অপরাজিত থেকে ফিরলেন।

Comments
Post a Comment